সোমবার, ১৩ Jul ২০২৬, ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ায় দুধ নিয়ে বিপাকে খামারিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিপাকে পড়েছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার দুগ্ধ খামারিরা। চা-মিষ্টির দোকান ও হোটেল বন্ধ এবং হাটবাজারে ক্রেতা কম থাকায় গরুর দুধ বিক্রি করতে পারছেন না তারা।

কুমারখালী উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে ৪৫৮টি দুগ্ধ খামার আছে। খামারগুলোতে ৩৫ হাজার গাভী আছে। প্রতিদিন এসব খামারে ৩০ হাজার লিটার দুধ উৎপাদিত হয়।

প্রতিদিন ওই এলাকায় খামারে উৎপাদিত প্রায় ৮ হাজার লিটার দুধ থেকে তৈরি করা ছানা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়। কুমারখালী শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে ১০ হাজার লিটার ও কুষ্টিয়া শহরে ১২ হাজার লিটার দুধ সরবরাহ করা হয়।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর প্রথমদিকে দুধ থেকে ছানা তৈরি করে সংরক্ষণ করা হলেও এখন আর স্থান সংকুলান হচ্ছে না। এ কারণে কম দামে দুধ বিক্রি করছেন খামারিরা। অনেক সময় কম দামেও দুধ বিক্রি না হওয়ায় ফেলে দিচ্ছেন তারা। গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় খামারিরা আরো বিপাকে পড়েছেন।

কুমারখালীর দয়রামপুর এলাকার খামারি সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে বড় কোনো প্রতিষ্ঠান দুধ নিচ্ছে না। মিষ্টির দোকান ও হোটেলগুলোও বন্ধ। অল্প দামেও কেউ দুধ কিনছে না। এখানে দুধ সংরক্ষণ করে রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই প্রায়ই দুধ বিক্রি করতে না পেরে ফেলে দিতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা খামারিরা পথে বসব।’

বিন্দা আলী বলেন, ‘আমার খামারে ১০টা গাভী আছে। প্রতিদিন প্রায় আমি দেড় মণ দুধ সংগ্রহ করি। কিন্তু এলাকায় দুধের চাহিদা একেবারেই নাই। তাই অনেক দিন দুধ বিক্রি করতে না পেরে ফেলে দিয়েছি।’

জগন্নাথপুর এলাকার ডেইরি ফার্মের মালিক আহমেদ ইমতিয়াজ জানান, খুচরা বিক্রেতারা আগে বাজারে ৫০ টাকা লিটার দরে দুধ বিক্রি করতেন। করোনার কারণে বর্তমানে তা ২৫ টাকায় নেমে এসেছে। খামারিরা একেবারেই দুধ বিক্রি করতে পারছেন না।

কুমারখালী উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুরে আলম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, খামারিদের প্রণোদনা দিতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে আবেদন করা হয়েছে। খামারিদের মধ্যে যাদের ব্যাংক ঋণ আছে, তাদের সুদ মওকুফের চেষ্টা করা হচ্ছে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com